
সকালে চাঙা থাকলেও দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই চোখে ঘুমঘুম ভাব, শরীরে আলস্য ও কাজে অনীহা দেখা দেয়। এ সময় চা-কফির ওপর নির্ভর না করে খাবারের ধরন, পরিমাণ, পানি পান ও ঘুমের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
খেজুরের সঙ্গে ঘি
হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে খেজুরের সঙ্গে সামান্য ঘি খেতে পারেন। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে ঘিতে থাকা চর্বি তুলনামূলক ধীরে শক্তি সরবরাহে সহায়তা করতে পারে।
তবে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা থাকলে নিয়মিত খেজুর-ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জাফরান দুধ
ক্লান্তি কমাতে অনেকে জাফরান মেশানো দুধ পান করেন। অল্প পানিতে এক-দুটি জাফরানের রেণু ভিজিয়ে তা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
তবে জাফরান দুধকে ক্লান্তি দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা ভালো। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার ও ঘুমের দিকেও নজর দিতে হবে।
রাতের খাবারের সময় ঠিক করুন
বিকেলের ঝিমুনির সঙ্গে রাতের ঘুমেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে গেলে কিছু মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর প্রভাব পরদিনের ক্লান্তিতেও পড়তে পারে।
তাই সম্ভব হলে ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা এবং প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করা ভালো।
দুপুরের খাবার খুব ভারী করবেন না
দুপুরে একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনি বাড়তে পারে। তাই খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি পুষ্টির ভারসাম্য রাখার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
নিয়মিত খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ছোট খাবারের অভ্যাস দিনের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুধু হজমের সমস্যা নয়
নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনির কারণ শুধু হজমের সমস্যা নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের কিছু সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
কয়েক সপ্তাহ ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে বা ক্লান্তির কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গের কারণ জানতে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন।
সূত্র: এনডিটিভি, হেলথলাইন